মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৬

সেই মেয়েটা যে ছিলো অামার স্বপ্নে

গল্প : সেই মেয়েটা যে ছিলো অামার স্বপ্নে
.
.
.
-এই উঠ, কয়টা বাজে দেখেছিস? (ভাবি)
-উফ ভাবি দিলা তো সকাল সকাল অামার ঘুমের বারটা বাঁজিয়ে। (অামি)
-কয়টা বাঁজে দেখেছিস,নয়টা বাঁজে ? অাবার কয় সকাল সকাল।
-ভাবি ইউরোপ কান্ট্রিতে এই নয়টা তাদের ভুর বুঝলা। উফ কি সুন্দর স্বপ্ন দেখছিলাম। অামার স্বপ্নের নায়কার সাথে, উফ কি রোমান্স। তুমি দিলা অামার রোমান্টিক মুহূর্তে পানি ঢেলে।তোমার মতো ভাবি যাদের ঘরে অাছে তাদের সকালটা কখনোই ভালো হবেনো।
-বাহ উপকার করলেও দুষ। কত বড় একটা উপকার করে দিলাম,কিন্তু অামি দুষি হয়ে গেলাম।
-উপকার কচু করেছো। অামি অামার স্বপ্নের নায়কাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলাম, অার তুমি দিলে পানি ঢেলে।
-বেশ করেছি,অাপনি স্বপ্ন দেখেন অার ঐ দিকে অাপনার স্বপ্নের নায়কাকে নিয়ে অন্যজন দূরে কোথাও পাড়ি জমাচ্ছে।
-ভাবি বদ দোয়া দিবেনা তো, তাহলে কিন্তু তোমার সাথে কথাই বলবো না।
-অামার সাথে কথা বলার দরকার নেই। অাগে অাপনি অাপনার স্বপ্নের নায়কা ইপ্তির রাগ ভাঙান গিয়ে।
-ভাবি ইপ্তির রাগ মানে?
-মানে হল স্যার, গতরাতে কি বলেছেন অাজকে যে অাপনার একটা ইমপোরটেন্ট দিন। যার কারণে গত কয়েকদিন ধরে বলে অাসছেন অামাকে। যার কারণে অাপনার ভাইকে বলে অাপনাকে অাজ অফিস থেকে ছুটি কাটিয়ে দিলাম।নেন ফোনটা হাতে নিয়ে দেখেন কয়টা কল অাসছে, ইপ্তির ফোন থেকে।
.
-ভাবি তুমি দিলে তো অামার বারটা বাঁজিয়ে,অারও অাগে ডাক দিলে না কেনো।
-হাহাহা
-ভাবি একদম হাসবেনা, ৩০টা কল দিয়েছে ইপ্তি, কে জানে কপালে কি অাছে।
-যা,তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়েনে নাস্তা দিচ্ছি অামি।
-ওকে।
.
অামি রাহাদ লেখা-পড়া শেষ করে ভাইয়ের সাথে নিজেদের ব্যবসায়ে যোগদান করেছি। যার সাথে কথা বলছিলাম উনি অামার সুইট কিউট একমাত্র ভাবি ইশানা। ভাইয়ারা প্রেম করে,পালিয়ে বিয়ে করেছে।অামাদের বাসায় কেউ মানতে রাজি ছিলোনা। পরে অামি মা বাবাকে বুঝিয়ে তাদেরকে মানতে বাধ্য করি।অাসলে ভাইয়া ভাবির বিয়েতে অামিই ঘটক ছিলাম।মানে প্রেম থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই অামি। তাই ভাবি অামাকে খুব ভালবাসে। শুধু ভাবি না,বাসার সবার কাছেই প্রিয় পাত্র অামি।
.
অার ইপ্তি হচ্ছে অামার বান্ধুবি। না বান্ধুবিনা, তার বড় কিছু। কবে যে তাকে ভালবেসে ফেলেছি, তা অামি নিজেই জানিনা। অাজকের দিনটা অামার জন্য স্পেশাল। কেননা অাজকের এই দিনে ইপ্তির সাথে কলেজ লাইফে ফাস্ট পরিচয় হয়েছিল। সেই থেকে অামরা প্রায় অাট বছর পার করে দিয়েছি। খুনসুটি অভিমান অার বন্ধুত্বের দাবি পূরণেই কেটেছে অাট বছর।অামি সবসময় নীরব থাকি, খুব একটা কথা বলিনা। তবে ইপ্তির সামনে কখনোই নীরব থাকতে পারিনা, তাকে রাগাতে খুব ভালো লাগে।তার রাগ মুখটা দেখলে অনেক ভালো লাগে। কবে যে তাকে ভালবেসেছে, সেটা অামার অজানা। তবে কোনদিন জানাতে পারিনি। তাই অাজকে জানাবো বলে ঠিক করেছি। রাতে বাসায় অাসার সময় স্টিক নিয়ে এসেছি, খালি হাতে তো অার প্রপোজ করা যাবেনা।
.
-কিরে এতো ফোন দিয়েছি,একটা বারও রিসিভ করিসনি কেনো। কিরে কথা বলছিস না কেনো হারামি। ঐ কি দেখছিস হারামি ওমর করে। ঐ (মাথায় থাপড়া দিয়ে) (ইপ্তি)
-উহ মাথায় মারলি কেন? জানস না মাথায় প্রবলেম। (অামি)
-তোর প্রবলেমের ক্ষেতা পুড়ি হারামী। এখন বাজে সাড়ে দশটা, সেই সকাল থেকে ফোন দিচ্ছি ধরিসনি। অাবার এখানে এসে হা করে তাকিয়ে রয়েছিস।
-ঘুমে ছিলামরে। অার তোকে দেখছিলাম, কেমনে সাজলি তোরে একদম ভালো দেখা যাচ্ছেনা। (রাগাতে বললাম, খুব সুন্দর লাগছে ইপ্তিকে, অাজকে যেনো এক অপ্সরী দাঁড়িয়ে অাছে অামার সামনে। চোখের পলক যেনো পড়তেই চাইনি।একটা গোলাপি কালারের শাড়ি,হাত ভর্তি গোলাপি চুড়ি, ঠোটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক উফ চোখের পলক পড়তেছেনা।)
-হারামি কুত্তা মুড অফ করবিনা, অাজকে একটা স্পেশাল দিন ফর মি।তাই তোকে সকাল হতে ফোন দিচ্ছিলাম। কিন্তু তুই হারামি ঘুমে। যাও এখন অাসলি অামার মুড খারাপ করছিস।
-সরি অার মুড করবোনা, একটা হাসি দে।
-হাহাহা
-কাকে কা-কা-কা করলে যেমন শুনাই,তোর হাসিও তেমন।
-হারামী কুত্তা দেখিস তোর বউয়ের হাসি তার চেয়েও খারাপ হবে। ধ্যাত মুড অফ করে দিলি। (ঐ দিকে রাস্তার দিকে তাঁকিয়ে কি যেন খুঁজতে খুঁজতে বললো)
-ওকে অার করবোনা। ঐ দিকে খুঁজিস।
-কিছুনা। তোকে অাজ একটা কথা জানাবো অার--
-অামিও তোকে অাজ একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা জানাবো।
.
--তাই নাকি? অাচ্ছা বল তোর গুরুত্বপূর্ণ কথা কি! (ইপ্তি)
-না অাগে তোরটা শুনি,তুই বল (অামি)
-অারে তুই বল, সবসময় তো অামিই বলি।
-অকে বলছি ওয়েট
-হুম বল
-বলছি তো
-কিরে ঘামছিস কেনো এতো, বল
-কই ঘামছি, বলছি শোন। অামি তোকে
-এই রাহাদ একটু দাঁড়া ফাহাদ চলে এসেছে, ফাহাদকে নিয়েই শুনি।
-ফাহাদ কে?
-অামি যাকে ভালবাসি, তোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো।প্রথমে ভালো লাগা থেকে ভালবাসা। তারপর ফাহাদ অামার বাসায় প্রস্তাব পাঠাই,অার বাসার সবাই রাজি হয়ে যাই।
.
-ইপ্তির মুখে কথা গুলো শুনার পর পৃথিবীটা অামার কাছে ঘুরছে। সমুদ্রের পানি যেনো ধুমরে মুছে দিচ্ছে সব,মনের ভেতর যেন এক বিশাল ঝড় ভয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে মনে হচ্ছে পৃথিবীতে অামি খুব একা।কথা বের হচ্ছেনা মুখ দিয়ে। গলা যেন ভসে গেছে, হৃদপিন্ড স্তব্ধ হয়ে গেছে।মনে হচ্ছে বাক শক্তি হারিয়ে ফেলেছি অামি।চোখের পানি যেন অার বাঁধ মানতে চাইছেনা,যদি বৃষ্টি হতো তবে ভালো হতো।
-কিরে রাহাদ কি ভাবছিস, এ হলো ফাহাদ।এর সাথেই তোকে অাজ পরিচয় করিয়ে দিতে এনেছি। ফাহাদ এ হলো অামার সবচেয়ে কাছের বেস্ট ফ্রেন্ড রাহাদ।
.
-নাইছটিমিট ইউ অামি রাহাদ।
-নাইছটিমিট ইউ অামি ফাহাদ,ইপ্তি অাপনার কথা খুব বলেছে।
-কি বলেছে, অামি খুব দুষ্টু, খুব বেশি কথা বলি। সবসময় তাকে রাগাই, অামি ভালোনা এসব।
-অারে না।ও তো অাপনার নামে প্রশংসা করেছি। বলেছে অাপনার মতো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের বেপার।
-না ও অাপনার কাছে মিথ্যে বলেছে, অামি মোটেও তেমন না।অাচ্ছা অাপনারা সময় কাটান অামি অাসছি।
-অাসছি মানে, কই যাস তুই? অার তোর কি ইমপোরটেন্ট কথা বললি না কেনো? (ইপ্তি)
-ও কিছুনা, অামার প্রমোশন হয়েছে, ভাইয়া বলেছে, বিদেশে ব্যবসার দায়ত্ব অামাকে দিবে।
-ও গ্রেট নিউজ।
-অকে থাক অামি গেলাম।ভালো থাকিস অভিনন্দন তোদের। সুখে থাকিস।
.
.
কেমন করে এখন বাসায় যাবো জানিনা, পুরো পৃথিবীটা অামার কাছে ঘুরছে। চোখের পানিটাকে অাঠকাতে পারছিনা। এতো দিনের জমিয়ে রাখা ভালবাসা এক নিমিষেই শেষ হয়েগিয়েছে। খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে। ভালবাসা এমন কেনো। শুধুই কি কষ্ট দেয়। জমিয়ে রাখা ভালবাসা প্রকাশ করতে পারলাম না।অাসলে বন্ধুত্বের মাঝে ভালবাসা হয় না,সেটা শুনেছি। কিন্তু অাজ তার সম্মুখীন হলাম। ফুল ফুটার অাগে যদি কলিটা ঝড়ে যাই,তার চেয়ে কষ্ট কি অাছে।
.
ইপ্তির জন্য অানান ফুলটা ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম। কেননা অামার জীবনটা এক মুহূর্তের জন্য ডাস্টবিনের থেকেও নিকৃষ্ট মনে হচ্ছে, তাই তাকে অামার চেয়েও ভালো জায়গাতে ফেলেছি, যেন নষ্ট হয়ে মরে যাই অামার ভালবাসা।একটা সিগারেট নেওয়া যাই,নিকোটিনের ধোয়ার সাথে কষ্টটাও হয়তো উড়ে যাবে।ভুলে যাব তাকে। অাসলেই কি তাকে ভুলতে পারবো, যে ছিলো অামার স্বপ্নের মধ্যে সেই মেয়েটি।
.
ভালবাসা অাসলেই কষ্ট, বিশেষ করে ওক তরফা ভালবাসাগুলো

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন